এয়ারবাস না কিনলে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে ‘মনে করেন না’ তৌহিদ হোসেন

ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত র‌্যুডিগার লোটৎস বলেন, বাংলাদেশ যদি এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়, তাহলে ইউরোপের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

বুধবার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি মনে করি না, কোনো এক কমার্শিয়াল ডিলের উপর আমাদের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ভরশীল হবে।” তিনি নিজের দেশের পণ্য বিদেশে বিক্রির জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রচেষ্টাকে স্বাভাবিক ও দায়িত্বপালন হিসেবে দেখেন।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রগুলো চেষ্টা করবে যেন তাদের ব্র্যান্ড বিক্রি হয়। এটা স্বাভাবিক, এবং রাষ্ট্রদূত তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সিদ্ধান্ত আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নেব, রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নয়।”

ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত লোটৎস উল্লেখ করেন, এয়ারবাস চুক্তি না হলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। তিনি ইংগিত দেন, ইউরোপে শুল্কছাড়সহ অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার আলোচনায় বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব থাকতে পারে।

এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাস ১০টি বড় উড়োজাহাজ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

এরপর আমেরিকার বোয়িং কোম্পানি ২৫টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দেয়, যাতে ৩৫ শতাংশ শুল্ক থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ সিদ্ধান্তের কারণে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়ে। এরপর ইউরোপীয় প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখেন।

ফ্রান্স দূতাবাসে চলতি মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে আশা প্রকাশ করেন, এয়ারবাসকে যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা হোক। তারা বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং জিএসপি প্লাস সুবিধার বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেন।

লোটৎস বলেন, “ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের প্রভাব থাকে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের কিছু প্রভাব অবশ্যই থাকবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি অন্তত অনুভব করছি না যে সরকারের ওপর কোনো চাপ আছে। শেষ সিদ্ধান্ত যিনি নেবেন, তাকে জিজ্ঞেস করুন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version