হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ফের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কার ও নদী রক্ষা কাজে ঠিকাদারের গাফিলতি এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বাঁধটি টেকসই হয়নি। এ ঘটনায় ঠিকাদার টিপু আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগে গত ৯ জুলাই একই এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেও সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাঁধ সংস্কারের প্রায় ৪ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ টিপু আহমেদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি প্রায় ৪৫ কোটি টাকার খোয়াই নদীর বাধ সংস্কার টেন্ডার নিয়েও টিপু আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকেবালু উত্তোলনের পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ের সরকারি গাছও কেটে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে নদীর বাধ আরও হুমকির মধ্যে পড়েছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে এত দ্রুত বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এবারও বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় প্রায় এক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে সরকারি জরিপ প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি খাতে টিপু আহমেদের প্রভাব ও কাজের পরিমাণ বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তার শতকোটি টাকার বেশি মূল্যের কাজ চলমান রয়েছে।
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাঁধ সংস্কার, ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার টিপু আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।